
*নারায়ণগঞ্জ, বন্দর:*
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মাঠপাড়া নবীগঞ্জ এলাকায় এক বিধবা নারী সাংবাদিক ও তার এতিম ৩ নাবালক সন্তানের উপর মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর বাড়ির মালিক মোরশেদা ইব্রাহিম নিরু ও তার ভাতিজা মশিউর রহমান মেরুনের বিরুদ্ধে। ৫ আগস্টের পরেও মামলা হলেও অভিযুক্ত মেরুন গ্রেফতার না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।
*৬ ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব, লুটপাট*
ভুক্তভোগী সাংবাদিক তানজিনা আক্তার লিপির অভিযোগ, গত ১৬ তারিখ সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মেরুন ও নিরুর নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন লোক ভাড়া ফ্ল্যাটের ২টি দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এসময় তাকে ও তার ৩ নাবালক এতিম সন্তানকে মারধর, চুল কেটে, হাত-পা ছেঁচে এবং গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এমনকি গায়ে আগুন লাগানোরও চেষ্টা করা হয়। সাজানো স্ট্যাম্প ও সাদা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘর থেকে ৪টি মোবাইল, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং জমির দলিল, ব্যাংক চেক বইসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায় তারা।
*৯৯৯ এ কল করেও সাহায্য মেলেনি*
তানজিনার দাবি, দরজা ভাঙার সময় তিনি ৯৯৯ এ কল ও বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিনকে কল দিলেও কোনো সহযোগিতা পাননি। বিকেল ৫টায় ওসি জামাল উদ্দিন এসে শুধু কিছু কাপড় ও কাগজপত্র নিয়ে তাকে বাসা থেকে বের করে দেন। কিন্তু বাচ্চাদের জামা-কাপড়, খাবার, ৪টি মোবাইল এবং ঘরে থাকা ১০ লক্ষ টাকার ফার্নিচার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র কিছুই নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। পরের দিন হোয়াটসঅ্যাপে অনুরোধ করলেও ওসি কোনো কর্ণপাত করেননি।
*জমি ও বিয়ে নিয়ে প্রতারণা*
তানজিনা জানান, তার মৃত স্বামী মাসুদুর রহমান মাকসুদের নামে কেনা ২৫ শতাংশ জায়গা বিক্রি করতে গেলে মেরুন ১০ লাখ টাকা বায়না দেওয়ার কথা বলে ৮ মাস ঘুরায়। কিন্তু এক টাকাও দেয়নি। উল্টো এলাকায় ২০ লাখ টাকা বায়না দিয়েছে বলে প্রচার করে। একপর্যায়ে ২৫/০৯/২০২৫ তারিখে অফিসে এনে হুজুর দিয়ে সরাসরি বিয়ে করে। পরে স্ত্রীর স্বীকৃতি না দিয়ে সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার জন্য নানাভাবে নির্যাতন শুরু করে।
*কারা এরা?*
– *সাংবাদিক তানজিনা লিপি*: মুছাপুরের সাবেক পণ্ডিত চেয়ারম্যানের মেয়ে। “দৈনিক মুক্ত খবর ও দপ্তর বার্তা” পত্রিকার সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাবের সদস্য এবং বন্দর থানা সাংবাদিক ক্লাবের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক।
– *মোরশেদা ইব্রাহিম নিরু*: ফতুল্লা প্যানটেক্স গার্মেন্টসের বর্তমান এমডি। ভুক্তভোগীর অভিযোগ তিনি এতিমের সম্পত্তিতে কুনজর দিয়ে ভাতিজা মেরুনকে লেলিয়ে দেন।
– *মশিউর রহমান মেরুন*: প্যানটেক্স গার্মেন্টসের সুপারভাইজার। অভিযোগ আছে তিনি আওয়ামী লীগের দোসর এবং শত কোটি টাকার মালিক।
*পুলিশের ভূমিকা ও মামলা*
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করেন। *মামলা নং: ৭৩৯/২৬*। মামলাটি ডিবিতে তদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত প্রধান অভিযুক্ত মশিউর রহমান মেরুন গ্রেফতার হয়নি। এতে এলাকায় “টাকা পেয়ে পুলিশ ঘুমিয়ে আছে” এমন গুঞ্জন উঠেছে।
নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
তানজিনা বলেন, _”আমি আমার এতিম বাচ্চাদের নিয়ে পথে বসেছি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই।

Reporter Name 














