
ঢাকায় নদী, লেক ও কলের পানিতে পিএফএএস বা পিফাস নামক ‘চিরস্থায়ী রাসায়নিক’-এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডিও) এবং আন্তর্জাতিক দূষণকারী নির্মূল নেটওয়ার্ক (আইপিইএন)-এর যৌথ গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় পরীক্ষিত অধিকাংশ পানির নমুনায় পিফাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডসের নিরাপদ সীমা অতিক্রম করেছে।
পিফাসকে ‘চিরস্থায়ী রাসায়নিক’ বলা হয়, যা পরিবেশে দীর্ঘকাল টিকে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, পিফাস শরীরে প্রবেশ করলে তা উর্বরতা, ভ্রূণের বিকাশ, থাইরয়েড হরমোনের কার্যকারিতা, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ও যকৃতের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বৃদ্ধি করতে পারে।
বাংলাদেশের পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। তবে, এই শিল্পের মুনাফা যদি নদীর জলে দ্রবীভূত হয় এবং এর মূল্য শিশুদের শরীরে পরিশোধ করতে হয়, তাহলে তা একটি উদ্বেগজনক বিষয়। বর্তমানে দেশে পিফাস নিয়ন্ত্রণের জন্য সুস্পষ্ট জাতীয় মানদণ্ড বা আইনি কাঠামো নেই।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, পিফাস-সংক্রান্ত পৃথক নীতি প্রণয়ন, শিল্পবর্জ্যের বাধ্যতামূলক পরীক্ষা এবং নদী ও কলের পানির নিয়মিত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন। পরিবেশ রক্ষা একটি সামাজিক দায়িত্ব, যা সকলের জন্য প্রযোজ্য।
অতএব, পিফাসের মতো ‘চিরস্থায়ী রাসায়নিক’কে জল ও স্থলে প্রবেশের পথ রুদ্ধ করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

Reporter Name 























