টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার টোকিওর জেট্রো হলে দেওয়া মূল বক্তব্যে তিনি পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতের কথা তুলে ধরেন। খাতগুলো হলো গাড়ি উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতা, রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে তিনশো জাপানি কোম্পানি কাজ করলেও জাপানের সরাসরি বিনিয়োগ এখনো ৫০ কোটি ডলারের নিচে। গত অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১৩৬ কোটি ডলার, আর জাপান থেকে আমদানি ২১৬ কোটি ডলার। সম্প্রতি সই হওয়া অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, ১৮ কোটির বেশি মানুষের বাজার, গড় বয়স ২৭ বছরের তরুণ কর্মশক্তি এবং বাড়তে থাকা মধ্যবিত্ত শ্রেণি বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ বিশ্বের শীর্ষ দশ ভোক্তা অর্থনীতির একটিতে পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জাপানি ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি, কার্যকর অবকাঠামো এবং অনুমানযোগ্য শুল্ক ও কর ব্যবস্থার বিষয়ে সরকার কাজ করছে। তাঁর ভাষায়, ব্যবসার জন্য নিশ্চয়তা দরকার, বিনিয়োগকারীর দরকার আস্থা, আর সঠিক পরিবেশ তৈরি করাই সরকারের কাজ।
তিনি আরও জানান, ছয়টি বড় বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দেশব্যাপী উঁচু দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে, আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও রোবোটিকস নিয়ে বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি পার্ক গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর একটি ছিল বলেও তিনি স্মরণ করেন।
সূত্র: বাসসের বরাতে আউটলুক বাংলা ও প্রথম আলো (ইংরেজি), টিওবি নিউজ, গ্রিনওয়াচবিডি।
— আলোকিত টিভি

Reporter Name 




